গাইবান্ধা প্রতিবেদক: মোঃ শরিফ আহমেদ।
জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে লেখালেখি করলেই ইসলামবিরোধী বা আলেমবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করার প্রবণতার প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের গাইবান্ধা জেলা শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাদুল্লাপুর উপজেলা শাখার সাবেক সদস্য সচিব মোঃ শরিফুল ইসলাম।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আমি শরিফুল ইসলাম। ছোটবেলা থেকেই মসজিদের মক্তবে পড়াশোনা করেছি। পরবর্তীতে পীরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জামতলা মাদ্রাসায় কওমি শিক্ষায়ও পড়াশোনা করেছি। ইসলাম আমার কাছে কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়; ইসলাম আমার শৈশবের শিক্ষা, নৈতিকতার শিক্ষা এবং সত্য ও ন্যায়ের শিক্ষা।”
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে সমালোচনা করার অর্থ ইসলাম বা আলেমদের বিরোধিতা করা নয়। তাঁর ভাষায়, “আমি ইসলাম ও মুসলমানকে সম্মান করি, মুসলিম আলেমদেরও সম্মান করি। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলের ইতিহাস, আদর্শ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা মানেই ইসলামকে প্রশ্ন করা নয়।”
শরিফুল ইসলাম আরও বলেন, তিনি কেন জামায়াতে ইসলামীতে না গিয়ে ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত—এ প্রশ্নের উত্তর তাঁর কাছে স্পষ্ট। তাঁর মতে, ইসলাম ও কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে এক করে দেখা উচিত নয়। রাজনৈতিক দলের আদর্শ, ইতিহাস ও কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতার আলোকে হওয়া প্রয়োজন।
১৯৭১-এর ইতিহাস নিয়েও প্রশ্ন
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে শরিফুল ইসলাম বলেন, ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল—এ বিষয়টি বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বলেন, এ কারণেই জামায়াতের তৎকালীন রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে তাঁর প্রশ্ন রয়েছে।
তবে তিনি মনে করেন, কোনো রাজনৈতিক দলের ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে ইসলামবিরোধিতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, “ইসলামের নাম ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রাখা উচিত নয়। আমার রাজনীতি ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে নয়; আমার রাজনীতি অন্যায়, বৈষম্য ও রাজনৈতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে।”
শরিফুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও রাজনীতির নিজ নিজ মর্যাদা থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “মসজিদ থাকবে মসজিদের জায়গায়, মাদ্রাসা থাকবে তার সম্মানের জায়গায়, আর রাজনীতি হবে জনগণের অধিকার ও জবাবদিহিতার জায়গায়।”
জামায়াতের সমালোচনা করায় তাঁকে ইসলামবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমার রাজনৈতিক অবস্থান বোঝার আগে আমার শৈশব, মাদ্রাসায় পড়াশোনা এবং আমার বিশ্বাসের জায়গাটা বোঝার চেষ্টা করুন।”
তিনি আরও বলেন, “আমি ইসলামবিরোধী নই। আমি আলেমবিরোধী নই। আমি ইতিহাস ভুলে যাওয়ার পক্ষেও নই। আমি আমার বিবেক, ইতিহাস ও বাংলাদেশের মানুষের অধিকারকে সামনে রেখে রাজনীতি করি।”
মোঃ শরিফুল ইসলাম
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, গাইবান্ধা জেলা
সাবেক সদস্য সচিব, সাদুল্লাপুর উপজেলা
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ

0 মন্তব্যসমূহ