অনলাইন ডেস্ক
৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক আকাঙ্ক্ষাকে নসাৎ করতে এবং দেশের চলমান স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে একটি মহল অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সচেতন নাগরিক সমাজ। ৫ আগস্টের আগে যারা আত্মগোপনে ছিল বা ঘরের কোণে লুকিয়ে ছিল, আজ তারাই রাজপথে রক্ত দেওয়া বীরদের আত্মত্যাগ ও কর্মকাণ্ডের বিভ্রান্তিকর সমালোচনা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এক যৌথ বিবৃতিতে দেশের বুদ্ধিজীবী, সাবেক ছাত্রনেতা ও সচেতন নাগরিকরা বলেন, যখন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ভিপি নুরুল হক নূর দিনে ৪-৫টি কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে মার খাচ্ছিলেন, কিংবা জামায়াতসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলো নির্যাতন সহ্য করে আন্দোলন ধরে রেখেছিল—তখন এই সমালোচকদের কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি। আজ নিজেদের কোনো রাজনৈতিক ফায়দা বা সুবিধা হাসিল করতে না পেরে তারা পুরো পরিস্থিতিকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
বিবৃতিতে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি বজায় রাখায় কোনো অসাধু চক্র সুবিধা করে উঠতে পারছে না। সরকারের কাছ থেকে অবৈধ উপায়ে কিছু না পেয়ে এখন তারা অন্যদের 'দালাল' বা 'চাটুকার' বলে গালি দিচ্ছে। এটা মূলত শিয়ালের আঙুর ফল টকের গল্পের মতো। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই তারা এখন দেশজুড়ে অস্থিরতা তৈরির পাঁয়তারা করছে। কুষ্টিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে যেভাবে উসকানিমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে একটি গোষ্ঠী নির্বাচিত ও প্রতিষ্ঠিত সরকারকে গ্রাস করতে চায়। কেউ কেউ প্রকাশ্যেই সরকারের পতন ঘটানোর মতো অবাস্তব ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ হুমকিও দিচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি কিংবা সুকৌশলে 'হাদিয়া'র নামে অর্থ আদায়ের সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করে সচেতন মহল বলেন, প্রকারান্তরে দুটোই একই অপরাধ। রাজনৈতিক দলগুলোর অতীত ভুলের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়, অতীতেও বড় দলগুলোর ছায়াতলে থেকে বা জোটে গিয়ে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ মেলানোর ইতিহাস সবার জানা। তাই আজ অতীত ভুলে সংঘাতের পথ বেছে নেওয়া কখনো দেশের জন্য মঙ্গলজনক কিছু বয়ে আনবে না। বর্তমান সরকারকে পূর্ণ ৫ বছরের মেয়াদ শেষ করার সুযোগ দিয়ে দেশে সুশাসন ও দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ফিরিয়ে আনা জরুরি।
একই সাথে দেশের নাগরিকদের প্রতি উগ্রতা পরিহার করে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, "আমরা মুসলিম, এই পরিচয় ও ধর্মীয় মূল্যবোধ আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। কোনো অবস্থাতেই ধর্ম, দেশ এবং প্রতিবেশীর ক্ষতি হয়—এমন কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়ানো যাবে না।" অকারণে একে অপরকে অযৌক্তিক গালিগালাজ বা ব্যক্তিগত আক্রমণ না করে সুস্থ ও সভ্য সামাজিক পরিবেশ বজায় রাখার তাগিদ দেওয়া হয়।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, অন্ধ বিরোধিতা বা একে অপরের পিছনে লেগে থাকার নোংরা রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। যেকোনো ভুলত্রুটির জন্য নেতিবাচক ও ধ্বংসাত্মক সমালোচনা না করে, দেশ গঠনের স্বার্থে ইতিবাচক গাইডলাইন বা দিকনির্দেশনা দিতে হবে। দেশের সাধারণ মানুষ এখন সংঘাত চায় না; তারা ফ্যামিলি কার্ডের মতো মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা, নিত্যপণ্যের দামের স্থিতিশীলতা এবং শান্তিতে বসবাস করার পরিবেশ চায়। তাই যেকোনো মূল্যে ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দিয়ে দেশের সুশাসন ও শান্তি বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ