Header Ads Widget

Responsive Advertisement

সাব-ভোট সেন্টারের দাবিতে গাইবান্ধা নির্বাচন অফিসের সামনে মানববন্ধন


 

গাইবান্ধা প্রতিনিধি,
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার আরাজী জামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রটি বিভক্ত করে চিকনী গ্রাম এলাকায় পৃথক একটি ভোটকেন্দ্র স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। একই সঙ্গে দাবির বিষয়ে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১১টায় গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন অফিসের সামনে চিকনী গ্রামের সচেতন এলাকাবাসী ও তরুণদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়রা জানান, সাদুল্লাপুর উপজেলার আরাজী জামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে এলাকার প্রধান ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বর্তমানে এ কেন্দ্রে প্রায় ১ হাজার ২৫০ জন ভোটার রয়েছেন। তবে চিকনী গ্রামসহ আশপাশের এলাকার ভোটারদের জন্য কেন্দ্রটিতে গিয়ে ভোট দেওয়া দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বর্তমান ভোটকেন্দ্র থেকে চিকনী গ্রামের দূরত্ব প্রায় আড়াই কিলোমিটার। সরু ও কাঁচা রাস্তা এবং নদীর কাছাকাছি ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিশেষ করে বর্ষাকালে কাদা-পানি ও যোগাযোগব্যবস্থার দুরবস্থায় ভোটারদের কেন্দ্রে যাতায়াত করতে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়। এতে বৃদ্ধ, নারী, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ভোটারদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
এ পরিস্থিতিতে চিকনী গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করতে আরাজী জামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি বিভক্ত করে চিকনী গ্রামে পৃথক একটি ভোটকেন্দ্র স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেন।
এলাকাবাসীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত নতুন ভোটকেন্দ্রের স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন জেলা ও সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা। এ সময় সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ আব্দুল মোমেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং প্রস্তাবিত স্থান বর্ষার দিনে রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ থাকে যে আমাদের মা-বোন, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের আরাজী জামালপুর ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। চিকনী গ্রামে পৃথক ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হলে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।


সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ আব্দুল মোমেন স্থানীয়দের বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যেক নাগরিকের ভোটাধিকার সহজ ও নির্বিঘ্নে প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। আরাজী জামালপুর কেন্দ্রের ভৌগোলিক অবস্থান এবং চিকনী গ্রামবাসীর যাতায়াতের সমস্যার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ভোটার সংখ্যা, দূরত্ব, যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় বিষয় বিবেচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, চিকনী গ্রামে পৃথক ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হলে শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগই কমবে না, বরং প্রত্যন্ত এলাকার নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ আরও সহজ হবে। এর ফলে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিও বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হলেও দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় রোববার মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধন শেষে চিকনী গ্রামের পক্ষ থেকে পৃথক ভোটকেন্দ্র স্থাপনের দাবিতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত বিষয়টি বিবেচনা করে সরকারি বিধি ও নীতিমালা অনুযায়ী চিকনী গ্রামে একটি পৃথক ভোটকেন্দ্র স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ