রংপুর মহানগরীর পরশুরাম থানাধীন হারাটি মধ্যপাড়া এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই নারীসহ একই পরিবারের তিনজন আহত হয়েছেন। আহতরা বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ৩১ আগস্ট দুপুরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে খালের পানি সেচ ও কাদা ফেলা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর স্বামী মো. আফতাবুজ্জামান পরশুরাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে মো. রশিদুল ইসলাম, মো. মাহাতাবুল, মোছা. ফারহানা ও মো. মাইদুল ইসলামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, বাড়ির পাশের একটি খালের পানি সেচ করে মাছ ধরার সময় খালের কাদা তাদের বাড়ির বেড়ার পাশে ফেলা হলে আফতাবুজ্জামানের স্ত্রী মোছা. মিতালী বেগম এতে বাধা দেন। এ সময় অভিযুক্তরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার বাম পায়ে আঘাত লাগে। পাশাপাশি চুল টানা ও কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানিরও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে খবর পেয়ে মিতালী বেগমের ভাই মোতাসছেম বিল্লাহ ও মাজেদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এলে তাদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তারা আহত হন।
ভুক্তভোগী আফতাবুজ্জামান জানান, আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তিনি থানায় অভিযোগ দিলেও ১২ দিন পার হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
এ বিষয়ে পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিবুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। উভয় পক্ষকে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বলা হয়েছে।
তবে ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ