অনলাইন ডেস্ক: চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের (বোর্ড চ্যালেঞ্জ) ফল প্রকাশের পর দেশের শিক্ষা বোর্ডের খাতা মূল্যায়ন ব্যবস্থার চরম গাফিলতির চিত্র ফুটে উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সংশোধিত ফলাফলে দেখা গেছে, পুনর্নিরীক্ষণের পর সারাদেশে নতুন করে ফেল থেকে পাস করেছেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী। একই সাথে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী।
ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা
পুনর্নিরীক্ষণের এই বিপুল পরিবর্তন সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা একজন শিক্ষার্থীর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ, যার ওপর ভিত্তি করে তাদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ এবং উচ্চশিক্ষার পথ নির্ধারিত হয়। এমন একটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মূল খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের এমন ভয়াবহ গাফিলতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
শিক্ষামন্ত্রীর ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন
খাতা মূল্যায়নের এই চরম বিশৃঙ্খলা এবং অবহেলার দায় কোনোভাবেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় এড়াতে পারে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর খাতার নম্বর ভুল হওয়া এবং ফেল করা শিক্ষার্থীদের পাস ও জিপিএ-৫ পাওয়ার ঘটনাটি শিক্ষা ব্যবস্থার তদারকি ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকেই স্পষ্ট করে তোলে। সচেতন অভিভাবকরা বলছেন, পরীক্ষকদের খামখেয়ালিপনার কারণে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেখানে অনিশ্চয়তায় পড়েছিল, তা সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীর প্রশাসনিক ব্যর্থতা প্রকাশ করে।
পরীক্ষকদের জবাবদিহিতার আওতায় না আনা এবং খাতা দেখায় উদাসীনতার কারণে প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের এভাবে মানসিক ট্রমা ও বোর্ড চ্যালেঞ্জের পেছনে বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে, যা দেশের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন।

0 মন্তব্যসমূহ