Header Ads Widget

Responsive Advertisement

এনায়েতপুর হাটে অবৈধ দখল উচ্ছেদ


 এনায়েতপুর হাটে অবৈধ দখল উচ্ছেদ

সরকারি জায়গা দখল করে প্লট বিক্রির অভিযোগের পর প্রশাসনের অভিযান
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: মোঃ আক্তার হোসেন সরকার
সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুরে দেশের অন্যতম বৃহৎ তাঁত কাপড়ের হাটের সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হাটের জায়গা দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা ও প্লট তৈরির অভিযোগের পর প্রশাসনের উদ্যোগে এসব অবৈধ দখল অপসারণের কার্যক্রম চলছে।
এনায়েতপুর হাটের প্রায় ৬ বিঘা সরকারি জায়গায় ৪৬২টি প্লট তৈরি করে বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এর আগে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি প্লট ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হয়েছে। এসব প্লট বিক্রির বিষয়ে কয়েকটি ‘সমঝোতা চুক্তিপত্র’ পাওয়ার দাবিও করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে।


স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি বা হস্তান্তরের কোনো আইনগত সুযোগ নেই। এনায়েতপুরের সংশ্লিষ্ট জায়গার একটি অংশ ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি জমি বলেও ভূমি কর্মকর্তার বক্তব্যে উঠে এসেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে হাটের সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে দখল করে রাখা স্থাপনা ও দখল উচ্ছেদে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকা জায়গাগুলো পুনরায় সরকারি নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হাট সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হাটের বিভিন্ন অংশ দখল করে রাখা হয়েছে। এতে হাটের স্বাভাবিক পরিবেশ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তারা সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করে হাটের নির্ধারিত সীমানা সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতে যাতে কেউ আবার দখল করতে না পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


এর আগে সরকারি জমিতে প্লট তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়। অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য মনজুর কাদেরসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি ব্যবহারের অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলার সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আশরাফ আলী জানান, সংশ্লিষ্ট জায়গাটি ১ নম্বর খাস খতিয়ানের সরকারি জমি। কারও ব্যক্তিগতভাবে এ জমি বিক্রি করার এখতিয়ার নেই।
চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম খোদাদাদ হোসেন বলেন, সরকারি সম্পত্তি বিক্রির এখতিয়ার কারও নেই। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামও জানিয়েছেন, সরকারি হাটের জায়গা প্লট করে বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এনায়েতপুর হাটের সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করার চলমান কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, উচ্ছেদ কার্যক্রমের পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণ, দখলমুক্ত জায়গা সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতে নতুন করে দখল ঠেকাতে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে সাবেক এমপি মনজুর কাদেরের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও প্রশাসনের তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত বিষয় স্পষ্ট হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ