Header Ads Widget

Responsive Advertisement

সাদুল্লাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নারী নার্সকে পিটিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টার অভিযোগ,


 

অভিযুক্ত হাসপাতালের জুনিয়র মেকানিক, গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি,
গাইবান্ধা প্রতিবেদক : আইয়ুব নবী সরকার।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাহানা পারভীন সুমি নামে এক নারী প্রধান সহকারী (নার্স)কে অফিসকক্ষে ঢুকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে একই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র মেকানিক শামসুজ্জোহা আলম সোহাগকে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারী কর্মীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর স্বামী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ১০টার কিছু পর অফিসকক্ষে দাপ্তরিক বিষয় নিয়ে প্রধান সহকারী শাহানা পারভীন সুমির সঙ্গে জুনিয়র মেকানিক সোহাগের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সোহাগ ক্ষিপ্ত হয়ে ভারী স্ট্যাপলার ও স্টিলের স্কেল দিয়ে সুমির মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন বলে অভিযোগ। এতে মাথায় আঘাত লেগে রক্তক্ষরণ শুরু হলে সুমি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই সময়ও হামলাকারী থামেননি। তিনি আহত সুমির ঘাড় ও গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। এ অবস্থায় তার চিৎকারে হাসপাতালের আরটিচিকেয়ার ল্যাব টেকনোলজিস্ট আমিনুল ইসলাম মানিক, অফিস সহকারী আব্দুল মতিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
পরে আহত সুমিকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তার মাথায় তিনটি সেলাই দেন। এছাড়া ঘাড়, গলা ও হাতে আঘাতের গুরুতর চিহ্ন রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত জুনিয়র মেকানিক সোহাগের বাড়ি হাসপাতালের কাছাকাছি হওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে আসছিলেন। কর্মস্থলে একজন নারী সহকর্মীর ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ঘটনার পর হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, চাকরি থেকে অপসারণসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কর্মস্থলে নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে গাইবান্ধার জেলা সিভিল সার্জনের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত একজন নারী সহকর্মীর ওপর প্রকাশ্যে হামলা ও শ্বাসরোধের চেষ্টার অভিযোগে কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ